মাদারীপুরের শিবচরের পদ্মা নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এ বছর বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, উর্বর বেলে-পলিমাটি এবং কৃষকদের নিরলস পরিশ্রমে গত বছরের ক্ষতি কাটিয়ে এবার ভালো উৎপাদন ও সন্তোষজনক বাজারদর পেয়ে স্বস্তির হাসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে।
ভোর থেকেই শিবচরের চরাঞ্চলে শুরু হয় কৃষকদের ব্যস্ততা। কোথাও মাটি খুঁড়ে বাদাম তোলা, কোথাও বাদাম ঝাড়া, আবার কোথাও রোদে শুকানোর কাজ চলছে। নারী-পুরুষ একসঙ্গে মাঠে কাজ করছেন। বালুময় চরাঞ্চলে অন্য ফসলের তুলনায় বাদাম চাষই এখানকার মানুষের প্রধান জীবিকার উৎস।
কৃষকরা জানান, পদ্মার চরাঞ্চলের উর্বর বেলে ও পলিমাটি বাদাম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এই মাটিতে খুব কম রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করেই ভালো ফলন পাওয়া যায়। নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার ও পরিচর্যার মাধ্যমে এ বছর কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন নিশ্চিত হয়েছে।
গত বছর অতিবৃষ্টি ও আগাম বর্ষণের কারণে বাদাম চাষে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন কৃষকরা। তবে চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ফলে এবার সেই ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছেন তারা।
শিবচরের পদ্মা চরের বাদাম স্বাদ, আকার ও গুণগত মানের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সমাদৃত। বর্তমানে মাঠ থেকে বাদাম সংগ্রহের কাজ শেষ পর্যায়ে। বাদাম তোলার পর মাঠেই শিকড় থেকে আলাদা করে রোদে শুকানো হচ্ছে। বাজারে ভালো দাম থাকায় অনেক কৃষক আগেভাগেই বিক্রি শুরু করেছেন। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন জেলাতেও এ বাদামের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে শিবচর উপজেলায় প্রায় ৬৯০ হেক্টর জমিতে বাদামের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু চর জানাজাত ইউনিয়নেই ১২০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কেজি বাদাম উৎপাদিত হয়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ বাদাম ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
চর জানাজাত ইউনিয়নের পাশাপাশি মাদবরেরচর, কাঁঠালবাড়ী, সন্ন্যাসীরচর, বন্দরখোলা, বহেরাতলা উত্তর, বহেরাতলা দক্ষিণ, নিলখী ও শিরুয়াইল ইউনিয়নেও ব্যাপকভাবে বাদামের চাষ হচ্ছে। কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষকদের আগ্রহ, চরাঞ্চলের উপযোগী মাটি এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে প্রতিবছরই শিবচরের চরাঞ্চলে বাদাম চাষের পরিধি বাড়ছে। এর ফলে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বদলে যাচ্ছে চরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার চিত্র।