যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আগামী ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদ-এ শুরু হতে যাওয়া বৈঠকে এই প্রস্তাবগুলোর ভিত্তিতে আলোচনা চালাবে তেহরান। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানের তত্ত্বাবধানে ‘নিয়ন্ত্রিত যাতায়াত’ চালুর প্রস্তাব।
২. প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ‘নিরাপদ ট্রানজিট প্রোটোকল’ প্রণয়ন।
৩. মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি ও সেনা প্রত্যাহারের দাবি।
৪. ইরানের মিত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুতি-এর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করা।
৫. ইরানের ওপর আরোপিত সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
৬. জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর নেতিবাচক প্রস্তাবনা বাতিল।
৭. বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ দ্রুত ফেরত দেওয়া।
৮. অতীতের সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান।
৯. আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো গঠন।
১০. ইসলামাবাদে হওয়া যেকোনো সমঝোতাকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ-এর বাধ্যতামূলক প্রস্তাব হিসেবে অনুমোদন করা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাবগুলো মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব শর্ত বাস্তবায়ন নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানো সহজ হবে না বলেও ধারণা করা হচ্ছে।