সারাদেশ

গাজীপুরে একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা, স্বামী পলাতক

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৯ মে ২০২৬, ০৭:৫৬
PostImage

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ভাড়াটিয়া পরিবারের পাঁচ সদস্যকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।


গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ভাড়াটিয়া পরিবারের পাঁচ সদস্যকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পরিবারের কর্তা ও সন্দেহভাজন ঘাতক ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন।

শনিবার (৯ মে) সকালে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ি থেকে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার (৮ মে) রাতের কোনো এক সময় এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

নিহতরা হলেন— ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন (৩০), তাদের বড় মেয়ে মীম (১৫), মেয়ে মারিয়া (৮), মেয়ে ফারিহা (২) এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মিয়া (২২)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলের দৃশ্য ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক। তিন শিশুর গলা কাটা মরদেহ ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল। শারমিনের ভাই রসুল মিয়ার মরদেহ পাওয়া যায় বিছানার ওপর। অন্যদিকে শারমিনের হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় তার নিথর দেহ পড়ে ছিল জানালার পাশে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে প্রায় এক বছর ধরে সপরিবারে ভাড়া থাকতেন ফোরকান মিয়া। শুক্রবার রাতেও পরিবারের সদস্যদের স্বাভাবিকভাবে দেখা গেলেও শনিবার সকালে স্থানীয়রা ঘরের ভেতর পাঁচজনের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

স্থানীয়দের দাবি, ফোরকান মিয়া ও তার স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ লেগে থাকত। সেই বিরোধের জের ধরেই তিনি স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যা করে পালিয়ে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম জানান, প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ফোরকান মিয়াই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে গেছেন।


গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশফাক উজ্জামান জানান, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান শুরু করেছে।