রাজনীতি

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৪ জুলাই ২০২৬, ১৪:০২
PostImage

‘সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে অস্বীকার করতে চাইছে’


জুলাই বিপ্লবের ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবায়ন, গণভোটের গণরায় কার্যকর, জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার, জুলাই গণহত্যাসহ ফ্যাসিবাদী আমলে সংঘটিত গুম, খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার দ্রুত সম্পন্ন এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার শিবু মার্কেট এলাকায় আয়োজিত সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। সমাবেশ শেষে একটি গণমিছিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ জেলা আমীর মুহাম্মদ মমিনুল হক সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এনসিপি নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক জুবায়ের সরদার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল কাদের নদভী, জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান, এসসিপি নারায়ণগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব জুবায়ের তামজিদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মুহাম্মদ এমদাদুল্লাহ, আবু সাঈদ মুন্না ও অধ্যাপক মাসুদুর রহমান গিয়াসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।


সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ মমিনুল হক সরকার বলেন, জুলাই বিপ্লব ছিল রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে মৌলিক পরিবর্তনের গণআকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। সেই আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতেই জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং জনগণ গণভোটের মাধ্যমে তার প্রতি সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সেই গণরায়কে উপেক্ষা করে জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে অস্বীকার করার পথে হাঁটছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।


তিনি বলেন, অতীতের কর্তৃত্ববাদী শাসনের ধারাবাহিকতায় প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের চেষ্টা চলছে। দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় বিবেচনায় উপাচার্য নিয়োগ, স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দলীয় ব্যক্তিদের দায়িত্ব প্রদান এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে ব্যর্থতা জনগণের গণতান্ত্রিক প্রত্যাশার পরিপন্থী। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করে জুলাই সনদের আলোকে রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এনসিপি জেলা আহ্বায়ক জুবায়ের সরদার বলেন, জুলাই শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, এটি জাতির আত্মত্যাগ, গণআকাঙ্ক্ষা ও নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রতীক। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের চেতনাকে উপেক্ষা করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন জনগণের আস্থা ধরে রাখতে পারবে না। তাই গণভোটের গণরায় দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।


জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে জুলাই বিপ্লবকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। যারা জুলাইয়ের আত্মত্যাগ ও অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, তারা মূলত ফ্যাসিবাদী রাজনীতির ধারক-বাহক বলেই জনগণ বিবেচনা করবে। তিনি জুলাই গণহত্যা, গুম, খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান।


বক্তারা আরও বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে রায় দিয়েছে তা বাস্তবায়ন করা সরকারের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলদারিত্ব বন্ধ এবং জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবিও জানান তারা। সমাবেশ শেষে কয়েক হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে একটি গণমিছিল শিবু মার্কেট এলাকা থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।