বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেছেন, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ১১ দলীয় জোটকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত করা হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল অন্তর্বর্তী সরকারও।
বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীতে ‘গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের ফলাফল তারা মেনে নিয়েছেন দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে। তার ভাষায়, বহু বছর পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে ঘিরে যদি সেদিন ফল প্রত্যাখ্যান করা হতো, তাহলে দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারত। তাই ১১ দলীয় জোট দেশের স্বার্থ বিবেচনায় সংযম দেখিয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের রায় মেনে নেওয়া হলেও গণভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করতে দেওয়া হবে না। নতুন বা পুরোনো—কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদ মেনে নেওয়া হবে না এবং জনগণের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।
জামায়াতের আমির আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে নানা নাটকীয়তার পর ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন শেষে কেউ কেউ দাবি করেছেন, নির্বাচন সম্পন্ন করতে অনেক কিছু মেনে নিতে হয়েছে। তার অভিযোগ, এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে জনগণকে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং বলা হচ্ছে জনগণ না বুঝেই গণভোটে রায় দিয়েছে।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে অনেকেই নিজেদের নির্যাতিত দাবি করলেও সবাই কারাবরণ করেননি। ফলে শহীদ পরিবারের কষ্ট ও বেদনা সবাই উপলব্ধি করতে পারবেন না। বক্তব্যের শেষাংশে ডা. শফিকুর রহমান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কেউ যদি শালীনতার সীমা অতিক্রম করে জুলাইয়ের ঘটনাবলিকে অসম্মান করার দুঃসাহস দেখায়, তাহলে তা সহ্য করা হবে না।