জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না বলেছেন, দলের কোনো নেতা বা কর্মী অপরাধে জড়ালে তাকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। সাংগঠনিকভাবে বহিষ্কারের পাশাপাশি আইনের আওতায় আনার বিষয়েও কঠোর অবস্থানে রয়েছে যুবদল।
বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনের হোটেল ভিক্টোরিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আব্দুল মোনায়েম মুন্না বলেন, অতীতে যেমন ছিল না, এখনও যুবদলে অপরাধীদের আড়াল করার সংস্কৃতি নেই।
তিনি বলেন, “কেউ অপরাধ করলে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ তা অস্বীকার করত। কিন্তু আমাদের সংগঠনে সেই সংস্কৃতি নেই। দলের কোনো নেতা-কর্মী বিপথগামী হতে পারে। তাকে আমরা বহিষ্কার করব, তার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, বহিষ্কারের পরও যদি কেউ কোনো অপরাধে জড়ায়, তার দায় সংগঠনের নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে যুবদল সভাপতি বলেন, বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। পাশাপাশি তাদের পেছনে কারা মদদ দিচ্ছে, তা গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে খুঁজে বের করে সংশ্লিষ্টদেরও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জীবনযাপনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তিনি বাংলাদেশে মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চান এবং নিজেও অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করেন। মুন্না বলেন, “তিনি ১৪টি গাড়ির বহরের পরিবর্তে ৪টি গাড়ি নিয়ে চলেন, ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলেন এবং ট্রাফিক পুলিশকে সহযোগিতা করেন। তিনি নিজের আচরণের মাধ্যমে দেশের মানুষের সামনে একটি উদাহরণ তৈরি করতে চান।”
তিনি আরও বলেন, বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শুধু বিএনপির সমর্থকরাই নয়, সব নাগরিক সমানভাবে নিরাপদ থাকবে। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা সবসময়ই স্বাগত। তবে কোনো ব্যক্তি যেন অপপ্রচারের শিকার না হন, সে বিষয়েও গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, “আমি নিজেও যদি কোনো অন্যায় করি, প্রমাণের ভিত্তিতে তা অবশ্যই তুলে ধরবেন। তবে যাচাই-বাছাই ছাড়া যেন কেউ অন্যায়ের শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।” যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংগঠনের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে সাধারণ জীবনযাপন ও শৃঙ্খলার মধ্যে থাকতে হবে। নেতৃত্বের পর্যায়ে কারও জন্যই সংগঠনের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।