জাতীয় সংসদে নিজের পারিবারিক পরিচয় ও রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে করা মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ড. শফিকুর রহমান। তিনি ফজলুর রহমান-এর বক্তব্যকে ‘অসংসদীয়’ আখ্যা দিয়ে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার (এক্সপাঞ্জ) দাবি জানান।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্য নিজের অবদান তুলে ধরতে গিয়ে অন্যের অবদান খাটো করার অধিকার রাখেন না। ফজলুর রহমানের বক্তব্য তাকে ব্যক্তিগতভাবে আঘাত করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ড. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি নিজেকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন—এটি চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, যা গুরুতর বিষয়। পাশাপাশি, “মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না”—এমন মন্তব্য নাগরিক অধিকারে হস্তক্ষেপ বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, একজন নাগরিক কোন রাজনৈতিক দল করবেন বা কোন আদর্শ অনুসরণ করবেন, তা নির্ধারণের অধিকার তার নিজের—এ বিষয়ে রাষ্ট্র বা অন্য কারও হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। এ ধরনের মন্তব্যকে তিনি ‘গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানান।
স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ফজলুর রহমানের বক্তব্যের অসংসদীয় অংশ সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হোক। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক শালীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, যুক্তির বদলে ব্যক্তিগত আক্রমণ সংসদের পরিবেশ নষ্ট করে। “রেগে গেলে হারতে হয়”—এই প্রবাদ উল্লেখ করে তিনি সবাইকে শান্ত থেকে তথ্যভিত্তিক আলোচনার আহ্বান জানান। এতে সংসদের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়বে বলেও মত দেন।
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, সংসদ সদস্যদের বক্তব্যে কোনো অসংসদীয় শব্দ বা অংশ থাকলে তা কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী এক্সপাঞ্জ করা হবে।