জুলাই চেতনা বিনষ্টের চেষ্টা করা হলে দেশে ‘আরেকটা জুলাই’ অবধারিত হয়ে উঠবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে গণতন্ত্রের কথা বলা হলে তা দেশে নতুন করে অস্থিরতার জন্ম দেবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহিদ দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামী এই সভার আয়োজন করে। আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. আযাদ বলেন, ‘গণতন্ত্র সুসংহত করতে হলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই সনদ বাদ দিয়ে যারা গণতন্ত্রের কথা বলে, তারা মূলত স্বৈর্তন্ত্র কায়েমের পথে হাঁটছে।’ তিনি দাবি করেন, জনগণের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে যে আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে উঠেছে, তার রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়ন না করলে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হতে পারে।
বাংলাদেশের মানুষ রক্তপাত ও অধিকার হরণের গণতন্ত্র চায় না উল্লেখ করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, জনগণ চায় এমন এক রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে এবং রাষ্ট্র জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে।
একুশের চেতনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রতিটি আন্দোলন ছিল স্বৈরতন্ত্র ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে। তিনি আরও বলেন, ‘একুশের চেতনা মানে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বা স্বৈরতন্ত্র নয়। একুশ থেকে জুলাই– প্রতিটি সংগ্রামই ছিল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই।’
রাজনৈতিক অঙ্গীকার থেকে বিচ্যুত হয়ে কেউ যদি জনগণের রায়কে উপেক্ষা করে, তবে তা গণতন্ত্রকে দুর্বল করবে বলে মন্তব্য করেন ড. আযাদ। তিনি বলেন, ‘জুলাই চেতনা যদি সরকার বিনষ্টের চেষ্টা করে, তাহলে আবারও জুলাই আসবে।’
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের নায়েবে আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
সভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
/এমআর/