চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫টির বেশি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে না বলে জানিয়েছে। ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের আগে এ তথ্য প্রকাশ করেছে রুশ বার্তা সংস্থা তাস।
ইরানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, এখন থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল হবে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি-এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে এবং কঠোর নিয়ম মেনে। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যুদ্ধের আগের পরিস্থিতিতে ফেরার সুযোগ আর নেই।
যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ঘিরে ইরান কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তও তুলে ধরেছে। দেশটি দাবি করেছে, বিদেশে আটকে থাকা তাদের সব অর্থ দুই সপ্তাহের মধ্যে ফেরত দিতে হবে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ-এর প্রস্তাবের মাধ্যমে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
এছাড়া এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন না করার শর্তও দিয়েছে ইরান। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়ে চুক্তির শর্ত মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি।
গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ধরা হচ্ছে।
এই সংকটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ উভয় পক্ষকে সরাসরি আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাজধানী ইসলামাবাদে সম্ভাব্য এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত করার সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।